ইসরাইল ইরানের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো হামলা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুরকিয়ে টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিদান বলেন, গত বছরের ( ৩০ নভেম্বর ) তেহরানে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও নষ্ট করবে।
গতকাল শুক্রবার এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ‘আমি আশা করি তারা অন্য কোনো পথ খুঁজে পাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ইসরায়েল বিশেষভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন সম্প্রতি তেহরানে গিয়েছিলাম, তখন একজন বন্ধুর মতো পুরো বিষয়টি তাদের স্পষ্টভাবে বলেছি। আর বন্ধুই তিক্ত সত্য বলে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ( ২২ জানুয়ারি ) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ইরানে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আঙ্কারা এবং প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে তুরস্ক গুরুত্ব দেয়।
এদিকে শুক্রবার রয়টার্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষের কোনো হামলাকে তেহরান ‘পরিপূর্ণ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত বছরের জুনে ইরানে হামলা শুরু করে ইসরাইল। জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে শুরু হয় তীব্র সংঘাত। এক পর্যায়ে এই সংঘাতে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তারও পাল্টা জবাব দেয় ইরানি বাহিনী।
১২ দিন পর ট্রাম্পের নাটকীয় ঘোষণার মধ্যদিয়ে কার্যকর হয়। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি। যুদ্ধ থামলেও দুই পক্ষের মধ্যে হুমকি-হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হামলা চালাননি তিনি।
এরপর গত বৃহস্পতিবার ( ২২ জানুয়ারি ) ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি ‘নৌবহর’ পাঠিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
তার এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই মুহূর্তে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়। জবাবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা জবাব দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সামরিক সমাবেশ প্রকৃত সংঘাতের জন্য নয় বলেই আমরা আশা করি। তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তাই ইরানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি আছে।’ তার ভাষায়, ‘এবার যেকোনো হামলা-সীমিত, ব্যাপক বা তথাকথিত সার্জিক্যাল সবকিছুকেই আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখব এবং কঠোরতম জবাব দেব।’
তথ্যসূএ:আল–জাজিরা
আমারবাঙলা/এসএ