বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। উন্নত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সামান্য চাকরির জন্য এখানকার মানুষ রাজধানীতে ছুটছে। আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে কথা দিচ্ছি, ঘরে বসে আপনারা উত্তরবঙ্গকে রাজধানী বানাবেন ইনশা আল্লাহ। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দেব না, বরং তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলব। এরপর তারা গৌরবের সঙ্গে দেশে বা বিদেশে সম্মানের সাথে কাজ করবে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি ) বেলা ১১টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। কাজ করার জন্য শুধু তিনটা শর্ত মেনে নিতে হবে। দূর্নীতি নিজে করবেন না এবং কোন দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দিবেননা। গরীব ধনী, নারী পুরুষ সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিৎ করা হবে। সে বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। ৫৪ বছরের বস্তা পঁচা রাজনীতি, যেটা দুর্নীতি আর দু:শাসনে দেশকে ডুবায় ফেলা হয়েছে এসব কিছু বদলাতে হবে। বৈষম্য বদলাতে হবে।
উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
এ সময় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থীদের জন্য জনগণের কাছে সমর্থন আশা করেন।
আমারবাঙলা/এসএ