মর্যাদার এ রাতটি কবে হবে তা সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট করে বলার বা জানার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ কথাটি সুস্পষ্ট যে, তা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় যে কোনো রাতে হবে। সে আলোকে তা হবে- ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত। অর্থাৎ ২০ রমজান দিবাগত রাত, ২২ রমজান দিবাগত রাত, ২৪ রমজান দিবাগত রাত, ২৬ রমজান দিবাগত রাত এবং ২৮ রমজান দিবাগত রাত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতেও হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এভাবে—
১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (বুখারি)
২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ (বুখারি)
২৭ রমজান শবে কদর
তবে কেউ কেউ শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে ২৭ রমজান তথা ২৬ রমজান দিবাগত রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কেও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
'যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা ২৭ রমাজনের রাতে অনুসন্ধান করে।' (মুসনাদে আহমাদ)
অন্য যে রাতগুলোও সম্ভাবনাময়
২৭ রমজানের রাত ছাড়া লাইলাতুল কদর পাওয়ার বেশি সম্ভাবনাময় রাতগুলো হলো-
২৫ রমজানের রাত।
২৯ রমজানের রাত।
২১ রমজানের রাত।
২৩ রমজানের রাত।
লাইলাতুল কদরের বিশেষ নিদর্শন
১. রাতটি বেশি অন্ধকার হবে না।
২. গরম ও শীতের তীব্রতা থাকবে না। অর্থাৎ সুন্দর শান্তিদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করবে।
৩. মৃদু শীতল (বসন্তের) বাতাস প্রবাহিত হবে।
৪. সে রাতের ইবাদতে মানুষ বিশেষ তৃপ্তি অনুভব করবে। যা অন্য রাতের ইবাদতে অনুভূত হয় না।
৫. প্রকৃত ঈমানদার রোজাদার স্বপ্নে তা জানতে পারবে।
৬. সে রাতে রহমতের বারিধারায় (বৃষ্টিতে) সিক্ত হবে জমিন।
৭. পূর্ণিমার চাঁদের মতো হালকা আলোক রশ্মিসহ সূর্য উদয় হবে।' (ইবনে খুযায়মাহ, বুখারি, মুসলিম)।