চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার ( ২১ জানুয়ারি ) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সে সময় আদালতে উপস্থিত থাকা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এদিন সকালে কারাগার থেকে পলককে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তবে জয় পলাতক থাকায় সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় বিদেশি আইনজীবী চেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এ মামলায় ৩টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আর এসব অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনালের এক নম্বর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।
অভিযোগ তিনটি পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা পলকের উদ্দেশ্যে বিচারপতি শফিউল বলেন, ডু ইউ প্লিড গিল্টি? তখন দাঁড়িয়ে পলক বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে সব মিথ্যা। আমি নির্দোষ।
এরপর অভিযোগ গঠন করে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। সবমিলিয়ে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
তিনটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের ঘটনা আনা হয়। ঘটনাস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশ। এর মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ফেসবুকে পরপর ৩টি স্ট্যাটাস দেন পলক। এসব স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ।
দ্বিতীয় অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা, খিলগাঁওয়ের ঘটনা আনা হয়। এসব জায়গায় ১৮, ১৯ ও ২৪ জুলাই গংগাচরণ রাজবংশী, রাসেল, হাসিব, মোসলেহ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন শহীদ হন। আহত হন আরও অনেকে। এখানে জয়-পলকের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, ড্রোন-হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে পলকের একটি ফোনালাপও উল্লেখ করা হয়।
তিন নম্বর অভিযোগে ৫ আগস্ট উত্তরায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের দায় আনা হয়। ওই দিন জাবিদ ইবরাহিম, শামসুল আলমসহ অনেকজন শহীদ হন। আহত হন আরও অনেকে। এখানেও মারণাস্ত্র ব্যবহারসহ অন্যান্য অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
আমারবাঙলা/এসএ