মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়ছে তেলের দাম। এক ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৭ ডলারে।
২০২০ সালে করোনা মহামারির পর থেকে এই প্রথম একদিনে সর্বোচ্চ তেলের দাম বাড়ল। এর আগে গত সপ্তাহেই দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছিল।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সপ্তাহ বা মাস ধরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মুখোমুখি হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধার সঙ্গে লড়াই করছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছে।
শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর থেকে তেলের চালান বাড়াচ্ছে। তবে শিপিং তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালি থেকে তেলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
এএনজেডের সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স বলেন, তেলের দাম বেড়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা গুদামে তেল জমা হওয়ার কারণে উৎপাদন কমাচ্ছেন। যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তাদের তেলের কূপ বন্ধ করতে হয়, তাহলে শুধু উৎপাদন কমবে না, সংঘাত শেষ হলেও সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এর ফলে দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকবে।
জেপিমরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসমান বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, যার বড় অংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়।’
তিনি রয়টার্সকে জানান, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারের দিকে উঠতে পারে। পরে যদি সংঘাত কিছুটা কমে আসে, তাহলে দাম আবার কিছুটা কমতে পারে। তবে স্পষ্ট ও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান না হলে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।
কাসমান আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারেরও বেশি হয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।