নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘ভিআইপি লাইন’-এর নামে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ৩–৪টি ডেলিভারি প্যানেলে ২টি করে নজেল থাকে। একলাশপুর সিডাপ গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ৩টি প্যানেলে ৬টি নজেলে গ্যাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও শুধুমাত্র একটি নজেলে অটোরিকশাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে অটোরিকশাগুলোর দীর্ঘ সারি হয়ে যায়। গ্যাস নিতে একটি অটোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।
এ সুযোগে নজেলম্যানরা অপর লাইনে অটোগুলোতে ‘ভিআইপি লাইন’ নাম দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করে প্রতি গাড়িতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি নিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে অটোরিকশা চালকরা সময় বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এই বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে থাকেন।
একলাশপুর সিডাপ গ্যাস পাম্পে আসা সিএনজি অটোচালক কামাল মিয়া বলেন, বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস দেওয়া বন্ধ থাকে। আমরা গ্যাসের জন্য গিয়ে ২–৩ ঘণ্টা বসে থাকলে বাকি সময়ে গাড়ি চালিয়ে মালিকের ভাড়া ৫–৬শ টাকা পরিশোধ করে নিজেদের পরিবার চালানো সম্ভব নয়। তাই সময় বাঁচাতে আমরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস নিতে বাধ্য হই। গ্যাস পাম্পের মালিক চাইলে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নিয়ে আরেকটি লাইন বাড়ালে এই যানজট থাকে না। কারণ তারা অবৈধ অর্থ আদায়ের লোভে নজেল বাড়ায় না।
পাম্পের দায়িত্বে থাকা লিপু মিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমরা এভাবে গ্যাস দিয়ে থাকি। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস নেওয়া এটা তাদের সমস্যা। ভিন্ন লাইন বাড়ানোর মতো আমাদের পাম্পের ক্যাপাসিটি নেই। মাইক্রো লাইনে ঢুকে কেউ সুবিধা নিলে সেটা তার ব্যাপার।
বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় আবুল কাসেম মিয়ার সিএনজি পাম্পের বিষয়ে কথা বলতে ০১৭৬৫৬৫২৯২ নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও মোবাইল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে ওই পাম্পের একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়ানো উচিত।
রমজান বিবির সাবিক সিএনজি পাম্পে গিয়ে একই অবস্থা দেখা গেছে। গ্যাস নিতে আসা সিএনজি অটোচালক বাদশা বলেন, একলাশপুর সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস নিতে গেলে প্রেসার কম পাই। তাই আমরা রমজান বিবি সাবিক সিএনজি পাম্পে গ্যাস নিতে আসি। কিন্তু এখানে এক লাইনে গ্যাস দেওয়ায় অনেক বেশি দেরি করতে হয়। আমরা সুবর্ণচর থেকে এসে বেশি দেরি করতে পারি না, তাই প্রতি বোতলে ৫০ টাকা হারে বেশি দিয়ে গ্যাস নিতে বাধ্য হই। আমাদের এ সমস্যা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। আমরা গ্যাস কোম্পানির কাছে এর সমাধান চাই।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায়েসুর রহমান জানান, গ্যাস পাম্পগুলোর বিষয়ে নানা অভিযোগ শোনা যায়। তাই সতর্কতার স্বার্থে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমারবাঙলা/এসএবি