শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে শাবিপ্রবির মূল ফটক থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে জরুরি যান চলাচলের জন্য সড়কের এক পাশ উন্মুক্ত করে দেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। আজ এ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
বিক্ষোভে শাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের এক অংশ এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর আগে, নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু কয় তারিখ, ২০ তারিখ’, ‘শহীদ রুদ্র শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে’, ‘মব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’, ‘হাইকোর্ট দিয়ে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’ এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, হাইকোর্টের আদেশ প্রত্যাহার করে আগামীকাল (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরো কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এর আগে, দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ অন্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
আমারবাঙলা/এসএ