আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া ১৬ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বিসিবির মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিসিবির পক্ষ থেকে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও মো. সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
বৈঠক শেষে বিসিবির পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নিরাপত্তা নিয়ে বোর্ডের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, “আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাতে অটল আছি। ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার প্রশ্নই আসে না।”
আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হলেও বিসিবি তা গ্রহণ করেনি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, বিশ্বকাপের সূচি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আয়োজনে পরিবর্তন আনা কঠিন। তবে বিসিবি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভারতে দল পাঠানো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপোড়েনের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ালেও পরবর্তীতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়, রাজনৈতিক চাপ ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিসিবি নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কথা উল্লেখ করে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানায়। প্রথম চিঠির জবাবে আইসিসি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও বিসিবির দ্বিতীয় চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। যদিও আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ পরে একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথি বিসিবির কাছে পাঠায়।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেন্যু পরিবর্তনের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
আমারবাঙলা/এসএবি