টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ওই চিঠিতে ভারতের মাটিতে খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে পিসিবি উল্লেখ করে—বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংশয় বিবেচনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্বেগকে তারা যৌক্তিক মনে করে। চিঠিটির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানানোয় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আজ বুধবার আইসিসির বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে। তবে এই সভা পিসিবির চিঠির কারণেই ডাকা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পিসিবির চিঠি পাঠানোর সময় নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, এতে আইসিসির অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। সূচি পরিবর্তন বা বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলতে দেওয়ার বিষয়ে আইসিসি এখনো অনড় রয়েছে। বিসিবির সঙ্গে আগের আলোচনাগুলোতেও একই অবস্থান জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে এ ইস্যুতে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহান্তে ঢাকায়। তবে সেখানে কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আইসিসি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ আয়োজনের ওপর জোর দিলেও বিসিবি জানিয়েছে, তারা ভারতে দল পাঠাতে রাজি নয়। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ জানুয়ারি।
এর আগে গুঞ্জন শোনা যায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল পিসিবি এবং বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে তারাও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পিসিবি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও ভারত–বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতিকে এর পেছনের কারণ হিসেবে ধরা হয়। এরপরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না।
আমারবাঙলা/এসএবি