উন্নয়নের বেড়াজালে জনজীবন বিপন্ন। শহরের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা ও সীমাহীন দুর্ভোগ। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান চিত্র দেখে বোঝা মুশকিল এটা শহর নাকি অন্য কিছু।
যদি আপনি জীবনে প্রথম নারায়ণগঞ্জে আসেন, কাজ বা বেড়াতে, তাহলে চরম হতাশ হবেন। শহরে ঢুকলেই মনে প্রশ্ন জাগবে—“এটা কি নারায়ণগঞ্জ? এটা কেমন নারায়ণগঞ্জ?”
শহরের সুস্বাদু খাবারের জন্য কিছুটা তৃপ্তি পাওয়া যায়। জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের দই মিষ্টান্ন খেয়ে মন ভরে যাবে। বোস কেবিনে চপ, কাটলেট ও চা খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন। কিন্তু তার পর? আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছু নেই। ডমিনোজ, কেএফসি, আড়ং, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডসহ প্রায় সব ব্র্যান্ডের শোরুম শহর জুড়ে, আর তাই—এরপর আর বলার কিছু নেই।
শহরে পা রাখলেই থমকে যেতে হবে। রাস্তায় চলতে হলে সাতবার ভাবতে হবে—“এখানে কি ট্রাফিক ব্যবস্থা আছে নাকি নেই?”। সারা শহর ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সায় সয়লাব। মনে হয়, শহরে অটো রিক্সার হাট বসেছে। যানজটের ফাঁদে পথচারীর চলাচল সীমিত। ফুটপাত অনেক আগেই হকারদের দখলে চলে গেছে। চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে এই দখল শুধু হাত বদল করেছে, কিন্তু অব্যবস্থাপনা আগের মতোই রয়ে গেছে।
এ নিয়ে বলার কেউ নেই। ট্রাফিক পুলিশ, জেলা প্রশাসন, রাজনীতিবিদ—সবাই নীরব। যেন নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এটাই নিয়তি। প্রশাসনের নীরবতা কম দায়ী নয়। জনমতহীন এই নগরে তারা নির্বিকার।
আইন অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব **রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)**ের। কিন্তু বাস্তবে রাজউকের ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় না। কারণ, রাজউক মূলত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নারায়ণগঞ্জ আলাদা শহর এবং সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় রাজউকের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সব খাল বরাট করে ‘উন্নয়নের’ নামে শহরকে কার্যত গলা টিপে মেরে ফেলা হয়েছে। পানি নিস্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না করেই জলাধারগুলো ভড়াট করা হয়েছে। নাগরিকদের কাছে এই উন্নয়নের মডেল এখন নির্মম প্রহসন মনে হয়।
গত বর্ষা মৌসুমে মাত্র দশ মিনিটের বৃষ্টিতে চার-চার পাঁচ ঘণ্টা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই দুর্ভোগ ভুলবার আগেই পরবর্তী বৃষ্টিপাত আসছে। ড্রেন সংস্কারের নামে শহরের প্রায় সব সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে, কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। জনমনে একটাই প্রশ্ন—“এই নৈরাজ্যের শেষ কোথায়?”
তাই সময়ের দাবী—রাজউকের আদলে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন না হলে বসবাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
আমারবাঙলা/এসএবি