চট্টগ্রাম প্রোগ্রাম মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে মুহূর্তটি ছিল প্রতীকী- একজন পরীক্ষিত রাজপথের নেতার প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা ও স্বীকৃতির প্রকাশ।
মোশাররফ হোসেন দীপ্তি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে পরিচিত নাম। ছাত্রজীবন থেকেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। মহানগর যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনকে চাঙ্গা করতে মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। এসব আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আন্দোলনের প্রতি তার অঙ্গীকার অটুট ছিল বলে সহকর্মীরা জানান।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও মোশাররফ হোসেন দীপ্তির উপস্থিতি লক্ষণীয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় পরিবারকে সহায়তা প্রদান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণ- এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মানবিক নেতা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিভিন্ন এলাকায় তার এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগের কারণে সর্বস্তরের জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। এমনকি অনেকেই তাকে ‘শৈশবের পদপ্রার্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচিত।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা ও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর দীপ্তি প্রকাশ্যে দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান(বর্তমানে সাঈদ আল নোমান দলীয় মনোনীত)। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে দলের বিজয়কে অগ্রাধিকার দেন।
দলীয় নেতারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মোশাররফ হোসেন দীপ্তির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ত্যাগী মানসিকতারই প্রতিফলন। একজন জনপ্রিয় নেতা হয়েও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে নিজের বৃহত্তর স্বার্থ ত্যাগ করা বর্তমান রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ বলে তারা মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম প্রোগ্রাম মাঠের সমাবেশে তারেক রহমানের স্নেহভরা আচরণ অনেকের কাছেই সেই ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোশাররফ হোসেন দীপ্তির মতো মাঠপর্যায়ের পরীক্ষিত নেতারাই দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত গড়ে তোলে।
রাজপথের লড়াই, কারাবরণের ত্যাগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দলীয় ঐক্যের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান- সব মিলিয়ে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে দলের যেকোনো দায়িত্বে তিনি আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখবেন, এমন প্রত্যাশাই করছেন তার অনুসারী ও সহকর্মীরা।
আমারবাঙলা/এনইউআ