ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি বলছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তারা আরোও কয়েক হাজার সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যাচাই–বাছাই করছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরকারবিরোধী গণ–আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ জানুয়ারি থেকে টানা কয়েক দিন ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় বড় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী নজিরবিহীন সহিংসতা চালিয়েছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভে হতাহতের তথ্য সংগ্রহে যুক্ত এনজিওগুলো জানিয়েছে, টানা ১৮ দিন ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাইয়ের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫ হাজার ৫২০ জন বিক্ষোভকারী, ৭৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক, ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪২ জন সাধারণ পথচারী। পাশাপাশি সংস্থাটি আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যাচাই করছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
লন্ডনভিত্তিক স্বাধীন ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে।
এদিকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ইরান। গত সপ্তাহে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের ‘ফাউন্ডেশন ফর মার্টার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পথচারীদের ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের তথ্যমতে, নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ বলা হয়েছে এবং বাকিদের যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের বাইরে থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, শুধু ৮ ও ৯ জানুয়ারির মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
আমারবাঙলা/এসএ