দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রাজনৈতিক জটিলতার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করা এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে আগামী সিরিজগুলোতে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বোর্ড।
গত শনিবার এক জরুরি বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিসিবির অবস্থান ইতিবাচক। তিনি বলেন, বোর্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সাকিবকে ভবিষ্যৎ সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলমান রয়েছে। তার ভাষায়, হ্যাঁ, আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আমাদের বোর্ডে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে এবং বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলিবিলিটি, ফিটনেস ও এক্সেসিবিলিট; আর যেখানে খেলা হবে ওখানে যদি প্রেজেন্ট থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে অবশ্যই বোর্ড বা সিলেকশন প্যানেল সাকিবকে পরবর্তী সময়ে সিলেকশনের জন্য বিবেচনা করবে। সাকিব অন্যান্য গ্লোবাল টুর্নামেন্টগুলোতে যেন অংশগ্রহণ করতে পারে, কারণ ওখানে বোর্ড এনওসি দেবে প্রয়োজন মতো।’
এছাড়া সাকিব আল হাসানকে পুনরায় কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে বোর্ড। তার বিরুদ্ধে থাকা আইনি বিষয়গুলো নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময়ই সাকিবের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় চুক্তির খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তখন বোর্ডের এক পরিচালক জানান যে সাকিব খেলতে আগ্রহী এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিষয়টি বিসিবি সভাপতিকে জানানো হয়েছে এবং এরপর সরকারের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। “সাকিবের ব্যক্তিগত ও আইনি বিষয়গুলো সরকারের আওতাভুক্ত। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা তাকে দলে ফেরাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছি,” বলেন আসিফ আকবর।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ বিরতির পর সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের অনুমোদন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই।
আমারবাঙলা/এসএবি