ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগামি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার-২ আসনের নির্বাচনী মাঠ জমে উঠেছে। কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকা এবং নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জোর প্রচারণায় নেমেছেন। মোট আটজন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনে সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে। বিশেষ করে চা-শ্রমিক ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের ভোট এবার ফলাফলের নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শওকতুল ইসলাম শকু পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। জেলা জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খান পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আল-ইসলাহ নেতা মো. ফজলুল হক খান সাহেদ পেয়েছেন কাপ-পিরিচ প্রতীক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল মালিক পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক। বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী পেয়েছেন কাঁচি প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তরুণ ভোটাররা বিশেষভাবে রাজনৈতিক সচেতন হয়েছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের প্রশ্নে তারা আগের তুলনায় অনেকাংশে সক্রিয়।
প্রার্থীরা বিশেষভাবে চা-বাগান এলাকায় মনোযোগ দিচ্ছেন। চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছেন। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে উঠান বৈঠক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।
লংলা, হিংগাজিয়া, লুয়াইউনি ও গাজীপুর চা-বাগানের স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচন কেবল প্রতীকের লড়াই নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনাই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, “সব চা-বাগানে আমাদের ধানের শীষ প্রার্থী মো. শওকতুল ইসলাম শকুর প্রচারণা জোরদার চলছে। চা-শ্রমিকরা অত্যন্ত সচেতন। আওয়ামী লীগ না থাকায় তারা বিএনপিকেই বেছে নেবেন—এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, “কুলাউড়া আমার ভালোবাসার জায়গা। জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য আমি অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। এবারের নির্বাচনে কুলাউড়া-২ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায্যতা এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনার সমর্থন প্রত্যাশা করছি। চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মানসম্মত চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বিষয়গুলোর ওপর আমি নির্বাচনী প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
আমারবাঙলা/এসএবি