জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় দাখিল করা অভিযোগপত্র পর্যালোচনার শুনানি আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ চার্জশিটটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য সময় চাইলে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এই দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ-সংক্রান্ত শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। ওই দিন মামলাটি শুনানির তালিকায় ছিল এবং বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে উপস্থিত হন। তিনি অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবীরা জানান, মামলার চার্জশিটের প্রতিটি দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। এজন্য তারা দুই দিনের সময় চান। আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করেন এবং জানান, বৃহস্পতিবার চার্জশিট গ্রহণ করা হবে নাকি এ বিষয়ে নারাজি জানানো হবে—সে সিদ্ধান্ত আদালতকে অবহিত করা হবে।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, শরিফ ওসমান হাদি আজীবন ন্যায়বিচারের কথা বলে গেছেন। তিনি সব সময় বলতেন, শত্রুর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই নীতিকে সামনে রেখেই অভিযোগপত্রটি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত না হন। তারা আরও জানান, এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরদিন বিচারক চার্জশিটে স্বাক্ষর করে বাদীকে আপত্তি থাকলে তা জানাতে ১২ জানুয়ারি আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগের সময় রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যখন তিনি একটি রিকশায় ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।এরপর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে।
আমারবাঙলা/এসএবি