পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা মনি হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, নিহত শিশুটির বাবা বাবুল প্যাদার নির্দেশেই তার চাচাতো চাচা রুবেল প্যাদা আয়েশাকে হত্যা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রুবেল প্যাদা (৩৫) এবং হত্যার নির্দেশদাতা বাবা বাবুল প্যাদা (৪৮)-কে সোমবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রুবেল প্যাদা সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের বাসিন্দা এবং কুট্টি প্যাদার ছেলে।
পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, নিখোঁজের দুই দিন পর রোববার বেলা ১১টার দিকে আয়েশার নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। সেদিন সন্ধ্যায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রুবেল প্যাদা হত্যার দায় স্বীকার করেন।
পরদিন সোমবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের তথ্যমতে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রুবেল প্যাদা জানান—নিহত আয়েশার সমবয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে তার বাবা বাবুল প্যাদার নিয়মিত অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আয়েশা জানতে পেরে তার বড় বোন ও সৌদি আরবে অবস্থানরত মাকে জানায়। এতে পরিবারে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সামাজিক সম্মান রক্ষার অজুহাতে বাবুল প্যাদা মেয়েকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই নির্দেশ দেন ভাই রুবেল প্যাদাকে। তিনি প্রয়োজনীয় সব খরচ বহনের আশ্বাসও দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাবুল প্যাদার সহায়তায় ঘরে ঢুকে আয়েশাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে গুমের চেষ্টা করা হয়।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দোলন হাসান এই স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং রুবেল প্যাদাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যার আগে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি শুধু হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
রুবেলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকেও হুকুমের আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত আয়েশার বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে সোমবার রাঙ্গাবালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রুবেল প্যাদাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন পরিণতির শিকার হতে না হয়।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় প্রযুক্তি ও নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রুবেল প্যাদা বাবুল প্যাদার নির্দেশে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে গুমের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া খুনের আগে ধর্ষণের বিষয়টিও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
আমারবাঙলা/এসএবি