পবিত্র রমাদান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। এই মাসেই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “রমাদান মাস, যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকদের পথপ্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)।
হাদিসে বর্ণিত আছে, এই মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাত—লাইলাতুল কদর।
তবে রমাদানের ফজিলত পেতে হলে দুটি শর্ত অপরিহার্য—ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং সুন্নাহর অনুসরণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমল করতে হবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথেই চলতে হবে।
নিম্নে রমাদান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. সিয়াম পালন
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। আল্লাহ বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে এই মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে রোজা রাখলে পূর্বের গুনাহ মাফ করা হয় (সহিহ বুখারি)।
২. সময়মতো সালাত আদায়
“নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ” (সূরা আন-নিসা: ১০৩)। সময়মতো নামাজ জান্নাতের নিকটবর্তী করে।
৩–৪. কুরআন শেখা ও শেখানো
রমাদান কুরআনের মাস। হাদিসে এসেছে, “তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়” (সহিহ বুখারি)।
৫. সাহরি খাওয়া
সাহরিতে বরকত রয়েছে। এক ঢোক পানি হলেও সাহরি গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে (মুসনাদ আহমাদ)।
৬. সালাতুত তারাবিহ আদায়
ঈমান ও সওয়াবের আশায় তারাবিহ আদায় করলে গুনাহ মাফ হয় (সহিহ বুখারি)। ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আদায় করলে পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায় (সুনান আবু দাউদ)।
৭. বেশি বেশি তিলাওয়াত
প্রতি হরফে ১০ নেকির প্রতিশ্রুতি রয়েছে (সুনান তিরমিজি)। রাসুল (সা.) রমাদানে অধিক তিলাওয়াত করতেন।
৮. শুকরিয়া আদায়
রমাদান পাওয়া বড় নিয়ামত। আল্লাহ বলেন, “যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, আমি অবশ্যই বাড়িয়ে দেব” (সূরা ইবরাহিম: ৭)।
৯. নেক কাজ বৃদ্ধি
রমাদানে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। প্রতি রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় (সুনান তিরমিজি)।
১০. তাহাজ্জুদ আদায়
ফরজের পর শ্রেষ্ঠ সালাত হলো রাতের সালাত (সহিহ মুসলিম)।
১১. দান-সদাকাহ
রাসুল (সা.) রমাদানে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন (সহিহ বুখারি)।
১২. উত্তম চরিত্র গঠন
রোজা অবস্থায় অশালীনতা ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে (সহিহ মুসলিম)।
১৩. ইতিকাফ
রমাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ সুন্নাহ (সহিহ বুখারি)।
১৪. দাওয়াতে দ্বীন
মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা উত্তম কাজ (সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৩)।
১৫. উমরা পালন
রমাদানে একটি উমরা, রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হজের সমতুল্য সওয়াব (সহিহ বুখারি)।
১৬. লাইলাতুল কদর তালাশ
“কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম” (সূরা কদর: ৩)। বিশেষ দোয়া: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন…”
১৭. বেশি বেশি দোয়া
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়—এমন সুসংবাদ রয়েছে।
১৮–১৯. সময়মতো ইফতার ও ইফতার করানো
খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার সুন্নাহ। অন্যকে ইফতার করালে সমপরিমাণ সওয়াব (সুনান ইবনে মাজাহ)।
২০. তাওবা ও ইস্তিগফার
খাঁটি তাওবা গুনাহ মাফের মাধ্যম (সূরা আত-তাহরিম: ৮)। ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার’ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে (সহিহ বুখারি)।
২১. তাকওয়া অর্জন
রোজার মূল লক্ষ্য তাকওয়া (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)।
২২. ফজরের পর ইবাদত
ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলে হজ-উমরার সমান সওয়াব (সুনান তিরমিজি)।
২৩. ফিতরা প্রদান
ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ রয়েছে (সহিহ বুখারি)।
২৪. খাদ্য বিতরণ
ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো উত্তম কাজ (সহিহ বুখারি)।
২৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইবাদত (সূরা আন-নিসা: ১)।
২৬. কুরআন হিফজ
আল্লাহ নিজেই কুরআনের হিফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন (সূরা আল-হিজর: ৯)।
২৭. বেশি বেশি জিকির
আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়।
২৮. মিসওয়াক ব্যবহার
মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও রবের সন্তুষ্টি আনে।
২৯. পরস্পরকে কুরআন শোনানো
জিবরাইল (আ.) রমাদানে রাসুল (সা.)-কে কুরআন শোনাতেন (সহিহ বুখারি)।
৩০. কুরআন বুঝে আমল
শুধু তিলাওয়াত নয়, কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গঠনই মূল লক্ষ্য।
আমারবাঙলা/এবি