যুক্তরাট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জরুরি নিরাপত্তাসতর্কতা জারি করে ইরানে থাকা সব মার্কিন নাগরিককে দ্রুত দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। সতর্কতায় বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা না রেখেই তাঁদের ইরান ত্যাগ করতে হবে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানজুড়ে অস্থিরতা চলছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানিও হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেহরান কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে; মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশি উসকানিমূলক সহিংসতা ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ‘ইউএস ভার্চ্যুয়াল এম্বেসি তেহরান’ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এখনই ইরান ছাড়ুন।’ এতে নাগরিকদের নিজ নিজ ঝুঁকি মূল্যায়ন করে ভ্রমণপরিকল্পনার আহ্বান জানানো হয়। কারণ, ‘আপনি যদি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত না নেন, তবে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না মার্কিন সরকার।’
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকেরা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমনকি শুধু মার্কিন পাসপোর্ট বহন করাই আটকের কারণ হতে পারে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রে কেবল ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।
যাঁরা এখনই ইরান ছাড়তে পারছেন না, তাঁদের জন্য পরামর্শে বলা হয়েছে-নিজ বাসভবনের ভেতরে বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে এবং খাবার, পানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য মজুত রাখতে।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে তেহরান, ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেমের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ আগেভাগে ঠেকাতেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল-যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তাঁর প্রশাসন ‘কিছু অত্যন্ত কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য বিমান হামলাকে তিনি ‘কাছে থাকা বহু বিকল্পের একটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর জবাবে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং সেখানে থাকা জনবল ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে।
এ ছাড়া তেহরানের দাবি, অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে বিদেশি মদদপুষ্ট অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এর মধ্যে মোসাদের সদস্যদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা।
আমারবাঙলা/এসএ