জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। দলটি আগে নিষিদ্ধ থাকলেও এখন আবার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। জামায়াত জানিয়েছে, তারা দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি ঐক্য সরকার গঠনের মাধ্যমে আবারও অংশীদারিত্বে আগ্রহী।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের সুরক্ষায় রয়েছেন।
তবে রয়টার্সকে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তারেক রহমান, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।’
বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রার্থী দিয়েছে।
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি, তবে বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে করা মতামত জরিপগুলোতে সাধারণভাবে বিএনপির জয় অনুমান করা হয়েছে। যদিও সেখানে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে। এই জোটে জেনজি প্রজন্মের একটি দলও রয়েছে, যারা যুব-নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত বছর ঢাকার একটি আদালত হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য যুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাঁদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তাঁর পতনের আগে বা সেই সময়ের আশপাশে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে চলে গেছেন।
আমারবাঙলা/এসএবি