আসছে বাংলা বর্ষপঞ্জির এক অনন্য মাস ফাল্গুন। শীতের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকৃতিতে যখন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে, তখনই আসে বসন্ত ও তার সঙ্গে ফাগুন উৎসব। প্রকৃতি ও মানুষের আবেগের এই মিলন থেকেই জন্ম নেয় বাঙালির প্রাণের উৎসব-ফাগুন।
ফাগুন উৎসবের সূচনা প্রাচীন বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থা ও ঋতুচক্রের ধারাবাহিকতা থেকে। শীত শেষে গাছে গাছে নতুন পাতা, শিমুল-পলাশের রঙিন উপস্থিতি এবং বাতাসে মধুময় আমেজ মানুষের মনে আনন্দের সঞ্চার করে। সেই আনন্দ প্রকাশের মধ্য দিয়েই বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার রীতি গড়ে ওঠে, যা কালক্রমে ফাগুন উৎসব হিসেবে পরিচিতি পায়।
বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বসন্তের গুরুত্ব অপরিসীম। বসন্ত এসেছে প্রেম, সৃজনশীলতা ও নবজাগরণের প্রতীক হয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তকে মানবজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন গভীর আবেগে।
কবির ভাষায়-“ওরে ভিখারি সাজায়ে দে তোর বসন্তের মালা।”
বাঙালির কাছে ফাগুন উৎসব এত প্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো-এই উৎসব ভালোবাসার বার্তা বহন করে। ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকেই বসন্তবরণ, আর এই মাসজুড়েই ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের আবহ বিরাজ করে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের এই সাযুজ্য বাঙালিকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
আজও ফাগুন মানেই হলুদ-কমলা রঙের শাড়ি, ফুলের মালা, বসন্তের গান ও কবিতার আসর। গ্রামবাংলা থেকে শহরের শিক্ষাঙ্গন—সর্বত্রই বসন্ত উৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে।
ফাগুন এলো হেথায়, পাতায় পাতায় প্রাণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাগুন উৎসবের আয়োজন বদলালেও এর মূল চেতনা অটুট রয়েছে। ফাগুন আজও বাঙালির কাছে কেবল একটি ঋতু নয়, বরং জীবন ও অনুভূতির উদযাপন।
ফাগুন তাই শুধু প্রকৃতির নয়;-
এটি বাঙালির সংস্কৃতি,
বাঙালির কবিতা
এবং বাঙালির প্রাণের উৎসব।
আমারবাঙলা/শারমিন আক্তার