রাজশাহীতে আইটি পার্ক সচল করে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন প্রকল্প সচল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে জনসভায় ভাষণ শুরু করেন। নির্বাচনী জনসভা হলেও ভিন্নভাবে কথা বলতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমি অন্য দলের সমালোচনা করতে আসিনি। আমি বলতে চাই জনগণের কথা, এলাকার মানুষের উপকার হয়-এমন কথাই আজ বলব। অন্যের সমালোচনা করে কি জনগণের লাভ হবে? হবে না।’ দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ‘আত্মার সম্পর্ক’ রয়েছে। তখন নিচ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকের করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দ জানান।
২৫ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘অন্য জেলার মানুষের রাজশাহীর কথা মনে আসলে প্রথমে মনে আসে পদ্মা নদীর কথা। কিন্তু নদী থাকলেই তো হবে না, নদীতে পানি থাকতে হবে। আবার রাজশাহীর কথা মনে আসলে শিক্ষা নগরীরর কথা মনে আসে। এখানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে; উচ্চ শিক্ষিত মানুষ আছে। কিন্তু সেই মানুষের কর্মসংস্থান নাই। এখানে আইটি ভিলেজ আছে, কাজ নাই। বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন। ফসলের উৎপাদন দ্বিগুন হয়েছিল। সেটি এখন বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে জয় হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজে হাত দিতে চাই। আইটি ভিলেজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিএমডিএ-কে সচল করতে চাই। সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই।’
তারেক রহমান জনসভায় বলেন, ‘২০০৪ সালে আমি রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছিলাম। শীতের সময় কম্বল বিতরণ করেছি, গরমের সময় নারী ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ছাগল বিতরণ করেছি। সেই থেকেই রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক রয়ে গেছে।’
কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’ এ কথা বলার পরে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে উত্তর জানতে চান, এতে চলবে? তখন সবাই তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে সংসারের ন্যূনতম ব্যয় সামাল দিতে পারেন। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহীতে আইটি পার্ক থাকলেও তা কার্যত অচল।
মঞ্চের পাশে জুলাই আন্দোলনে আহত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট দেশে যে পরিবর্তন হয়েছে সেই পরিবর্তন যেতে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে, দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেই জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’ গত ১৬- ১৭ বছরে ভোটাধিকার হরণ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিশিরাতের নির্বাচন, গায়েবি নির্বাচন আমরা দেখেছি। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র থাকলেই জনগণের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।। আমরা ধর্ম নয়, মানুষ দেখি। ১৯৭১ সালে আপনারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। তখন ধর্ম দেখি নাই। এখন দেশ গড়ার সময় আমরা আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’
আমারবাঙলা/এসএ