আর মাত্র ৯ দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে এখনো তেমন কোনো নির্বাচনি আমেজ দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ ভোটারই সব প্রার্থীর সঙ্গে পরিচিত নন। দু–একজন প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়া পুরো এলাকায় চোখে পড়ছে না উল্লেখযোগ্য কোনো প্রচারণা। ভোট চেয়ে মাইকিংও নেই বললেই চলে। ফলে ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেই আগ্রহ বা উত্তেজনা।
আশুলিয়ার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, “ঢাকা-১৯ আসনে এমপি পদে আমি শুধু ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবুকে চিনি। অন্য প্রার্থীদের কখনো দেখিনি, তাদের সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই জানি না। তাহলে কীভাবে প্রার্থী বেছে নেব?”
তিনি আরও বলেন, “সাভার ও আশুলিয়ায় তেমন কোনো নির্বাচনি আওয়াজ নেই। শুধু নিয়ম রক্ষার নির্বাচন হচ্ছে। যারা সামান্য প্রচারণা করছেন, তারাও শুধু নিজের ভোটকেন্দ্রের ভোট চাইছেন—বড় কোনো পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে না।”
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু (ধানের শীষ),লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (ছাতা),জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে দিলশানা পারুল (শাপলা কলি),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ ফারুক খান (হাতপাখা),ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী (আম),বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে কামরুল (হারিকেন),জাতীয় পার্টি থেকে মো. বাহাদুর ইসলাম (লাঙ্গল)এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে শেখ শওকত হোসেন (ট্রাক)।
সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, কর্মসংস্থানের অভাব, নিরাপদ আবাসন সংকট, সন্ত্রাস, মাদক, ফুটপাত দখল এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে জনজীবন বিপর্যস্ত। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান চান তারা।
ভাদাইল এলাকার এক স্থায়ী বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে। গ্যাস সংকটের কারণে সিলিন্ডার গ্যাস খুচরা বাজারে ১৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে কাউকে দেখি না। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা উন্নয়ন করবে, দেশের জনগণের জন্য সত্যিকার অর্থে কাজ করবে।”
ভোটারদের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, “আমি এই আসনে দুইবার এমপি ছিলাম। এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখ খুব ভালোভাবে জানি। কোথাও সমস্যা হলে তা সমাধানে শতভাগ আন্তরিক থাকবো-এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, “সাভার-আশুলিয়া এলাকায় পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নেই। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।”
উল্লেখ্য, সাভার উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসন। এই আসনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সাভার সেনানিবাস ও ডিইপিজেড এলাকা। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫০ জন, পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।
আমারবাঙলা/এসএ