মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড়-টিলা কেটে অবৈধভাবে রিসোর্ট ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, লাউয়াছড়া, ডলুবাড়ি ও মাঝেরছড়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক টিলা কেটে বড় আকারের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডলুবাড়ি এলাকায় সরকারি নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে অনিয়মগুলোকে নিয়মের আড়ালে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও কিছু জনপ্রতিনিধির যোগসাজশেই পাহাড়-টিলা কেটে এসব রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্ট বা যেকোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ আইনসঙ্গত নয়। অনুমতিবিহীন কোনো রিসোর্ট নির্মাণের বিধান নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি উপজেলা শাখার সভাপতি সাহারাব ইসলাম রুহিন বলেন, আমরা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
উল্লেখ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাহাড়-টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কৃষিজমিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আমারবাঙলা/এসএ