চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাম্প্রতিক সময়ে ১৫৩ জন নিয়োগকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হলে বিষয়টি তদন্তে মাঠে নামে সংস্থাটি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করে। দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত চবির ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনকে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পরপরই স্বজনপ্রীতি ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমাজের একাংশ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা খান প্রভাষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতেই এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), প্রাণিবিদ্যা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (এইচআরএম)সহ মোট ৯টি বিভাগে ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১০০ জন কর্মচারী এবং ৯ জন কর্মকর্তার নিয়োগের সুপারিশও ওই সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগের প্রতিটি ধাপে সরকারি বিধি-বিধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা মানা হয়েছে কি না, কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আমারবাঙলা/এনইউআ