হঠাৎ অসুস্থ হয়ে নিজের বাসায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন সংগীতশিল্পী তৌসিফ আহমেদ। ঘটনার দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। পড়ে যাওয়ার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে মাথায় দিতে হয় ২৭টি সেলাই।
পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, তৌসিফ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি বাসায় ফেরেন।
কিন্তু সুস্থতার পথে ফিরলেও মানসিক চাপ যেন আরও বেড়েছে এই শিল্পীর। কারণ অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয় বিদ্রূপ, কটাক্ষ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো। বিষয়টি তাকে গভীরভাবে আহত করেছে বলে জানিয়েছেন তৌসিফ নিজেই।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তার শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। শুধু তাই নয়, তাকে ও তার পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই আচরণকে সরাসরি সাইবার বুলিং ও মানহানি হিসেবে দেখছেন তৌসিফ আহমেদ। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান শিল্পী।
তিনি লেখেন,
কারো অসুস্থতার খবরে এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো আমাদের সামাজিক অবক্ষয়েরই প্রমাণ। সহানুভূতির জায়গায় উল্লাস—এটা মানা যায় না। আমাকে নিয়ে কিছু বললে সহ্য করা যায়, কিন্তু পরিবারকে টেনে আনা অপরাধ।
ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তৌসিফ আরও বলেন,
আমি হয়তো তারকাখ্যাতির শীর্ষে পৌঁছাতে পারিনি, কিন্তু আমার গান আজও মানুষ শোনে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। দয়া করে যাচাই না করে কোনো গুজব ছড়াবেন না।”
প্রসঙ্গত, শারীরিক জটিলতা তৌসিফ আহমেদের কাছে নতুন নয়। এর আগেও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে প্রথম এবং ২০২৪ সালের শেষভাগে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক করেন এই সংগীতশিল্পী। চিকিৎসকদের পরামর্শে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্রামে রয়েছেন তিনি।
‘দূরে কোথাও আছি বসে বৃষ্টি ঝরে যায় এ মনের আঙিনায়’, ‘জান পাখি’—এমন বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তৌসিফ আহমেদ। গানের পাশাপাশি লেখা, সুর ও সংগীতায়োজনেও তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০০৭ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম অভিপ্রায়’।
আমারবাঙলা/এসএবি