মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, “ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করার কেউ নাই। ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করবে কে? বিএনপি ছাড়া তো আপনাদের পাশে কে আছে?
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে টানা দুটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির আয়োজনে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মৌলভীবাজার জেলা, সদর ও রাজনগর উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা হয়। পরবর্তী দিন, বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি), শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম নাসের রহমান।
দুটি সভাতেই হিন্দু নেতৃবৃন্দ ধানের শীষের পক্ষে ভোট ও সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতারা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এম নাসের রহমান বলেন, “এই জামায়াতে ইসলামী কখনোই এদেশে ক্ষমতায় আসবে না। আর যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসে, তাহলে আপনারা এদেশে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।” তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার। এর মধ্যে হিন্দু ভোটার ৯২ হাজার ৫৬ জন। চা-শ্রমিক ভাই-বোনরা প্রায় ৪০ হাজার। বাগানের শ্রমিক ভাই-বোনেরা প্রায় শতভাগ সমর্থন আমাকে ইতিমধ্যে দিয়েছেন। ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন আর কে করবে?”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা অনেক সময় আমাদের ভোট দেন না জেনেও আমরা অতীতেও আপনার পাশে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনাদের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসবে আমরা সব সময় পাশে থেকেছি।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, “একসময় বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১১–১২ শতাংশ, এখন কমে এসেছে ৮–৯ শতাংশে। অনেকেই দেশ ছেড়ে ওপারে চলে যাচ্ছেন। আমার একটি পরিকল্পনা আছে- আমি আমার নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করব। ভবিষ্যতে হিন্দু ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রিজার্ভ সিটের বিষয়টি চিন্তা করে দেখা যায় কি না।”
তিনি বলেন, “যদি ৮–১০ শতাংশ হিন্দু ভোটার থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদে আপনারা দুই–তিনজনের জায়গায় নয়, ৮–৯ জনের মতো প্রতিনিধিত্ব পেতে পারেন। এটা আমরা আলোচনা করে দেখতে পারি। এই কাজটা আওয়ামী লীগের করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা আপনাদের কাঁধে বসে বসে মধু খেয়েছে। দল হিসেবে কিছুই পাননি।”
পার্শ্ববর্তী দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওপারে কোনো হিন্দু নাগরিক এক্সিডেন্টে মারা গেলেও চিল্লাচিল্লি শুরু হয়ে যায়। প্রশ্ন হলো—আপনাদের কি পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি কোনো আনুগত্য আছে? যদি না থাকে, তাহলে চিল্লাচিল্লি কেন?”
বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচন অন্যভাবে চুরি হয়েছিল। ২০১৪ সালে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে সময়ে ব্যালট ভরে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল ডামি নির্বাচন। সেই দিন শেষ। এবার ভোটাররা নিশ্চিন্তে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।”
তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য যেসব সাহায্য–সহযোগিতা দরকার, সবই আমি করব। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের সরকারের চেয়েও বেশি অনুদানের ব্যবস্থা করব।”
তিনি আরও জানান, “বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ও দুই ঈদে বোনাসের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা, দুর্গাপূজায় বোনাস ও সরকারি গ্রেডের মর্যাদা দেওয়া হবে। খ্রিস্টান ধর্মের পাদ্রিরাও একই সুবিধা পাবেন।”
মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশের সভাপতিত্বে এবং রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বিএনপি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মরহুম অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্মরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী এম নাসের রহমানকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এম নাসের রহমানও অতীতের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের সব কাজে সহযোগিতা এবং সুখ-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আমারবাঙলা/এসএবি