ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সভাপতি ও মাছরাঙা টিভির প্রধান সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেছেন, ‘সংবাদপত্র বা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য আমরা অনেকভাবে সরকারকে সমালোচনা করছি। কিন্তু আমি মনে করি এটার প্রয়োজন নেই। কারণ, কোনো সরকার আসলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া দেখতে চায় না।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে গণমাধ্যম সম্মিলনে এ কথা বলেন রেজওয়ানুল হক।
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে সকাল সোয়া ১০টার পরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে শুরু হয়েছে এই গণমাধ্যম সম্মিলন। চলবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত।
সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
রেজওয়ানুল হক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার, যাঁরা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা নতুন রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলেন, তাঁরাও কাজটা করতে পারলেন না। তাঁরা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করলেন, কিন্তু সে সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ফেলে রাখলেন, এটা নিয়ে কোনো কাজ করলেন না।’
কোনো রাজনৈতিক দল যখন বিরোধী দল থাকে তখন গণমাধ্যমকে তাঁদের বন্ধু মনে করে। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সেই সম্পর্ক বিপরীত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি যখন ক্ষমতায় যান তখন মিডিয়া তাঁর কাছে শত্রু হয়ে যায়।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ঐক্যবদ্ধ না থাকা। তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন বলেন তিনি। তিনি বলেন, ইতিপূর্বেও সাংবাদিক ও গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু সেই ঐক্য বেশি দিন টেকসই হয়নি।
সাংবাদিকদের করণীয় ঠিক করতে সম্মিলিত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেন রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, ‘আমাদের কীভাবে সাংবাদিকতা করা উচিত, কোনটা করা উচিত, কোনটা করা উচিত না, আমরা নিজেদের সেলফ রেগুলেশনের মধ্যে আনতে চাচ্ছি। এ রকম একটা সাংবাদিকতা নীতি–নৈতিকতার মতো একটা রুলস যদি কিছু করা যায় সবাই মিলে, তাহলে আমার মনে হয় যে অসৎ উদ্দেশ্য থেকে আমরা হয়তো একটা পরিত্রাণ পেতে পারি।'
সংকট মোকাবিলায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের জন্য অন্তত একটি ফোরাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আমারবাঙলা/এসএ