মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য এ দেশের মানুষের সেবা করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার–১ সংসদীয় আসনে ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি রাজনৈতিক শক্তি একদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে আজ তারাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বয়ান দিচ্ছে—যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। “যারা কখনো এ দেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি করেছে, তারাই আজ ইতিহাসের ব্যাখ্যাতা সেজেছে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “যারা এ দেশের মা–বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভাড়া করে এনে তারা দাবি করে—তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শুনতে হওয়াই আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মহান আল্লাহর রহমত ও জনগণের দোয়ায় তিনি এ দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। ক্ষমতার জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতেই তার রাজনীতিতে আসা।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা করুন।”
দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। এ সময় তিনি বলেন, আজ দায়িত্ব ও কর্তব্যের বোঝা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের দল উল্লেখ করে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে অবদানের কথা তুলে ধরেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের অংশগ্রহণকে তিনি স্বাগত জানান—কারণ এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে স্বাধীনতা ও উন্নয়নে তাদের কোনো বাস্তব অবদান নেই—এ কথা দেশের মানুষ জানে।
নির্বাচনে জয়ী হলে পেকুয়া ও চকরিয়াকে উন্নয়নে ভরপুর, জনবান্ধব ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তার রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী এডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আলী হাছান চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আমারবাঙলা/এনইউআ