খুলনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা। কারণ, জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মোট ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬টিকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে—যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্বাচনের দিন খুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাই হবে মূল আলোচ্য বিষয়। জেলা পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে কেন্দ্রগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান, পূর্বের নির্বাচন অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে।
ঝুঁকির বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে খুলনা-৬ আসন। সেখানে ৮৩ দশমিক ২২ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মহানগরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসনে ঝুঁকির হার তুলনামূলক কম—প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
আসনভিত্তিক সংখ্যাগুলো বলছে—
খুলনা-১: ১১৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ
খুলনা-২: ১৫৭ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টি
খুলনা-৪: ১৪৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টি
খুলনা-৫: ১৫০ কেন্দ্রের মধ্যে ৮৩টি
এই শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতেই সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা কৌশল।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন যে, প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪ জন পুলিশ করা হয়েছে এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাসহ ৫ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
যেসব দুর্গম কেন্দ্রে গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে না, সেখানে মোবাইল পেট্রোলিং এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় কাজ চলছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানিয়েছেন যে, ৫৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫৫৮টিতে সিসি ক্যামেরা থাকবে যা সরাসরি মনিটরিং করা হবে।
এ ছাড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩০০টি কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের শরীরে বিশেষ বডি ক্যামেরা থাকবে, যার সরাসরি সম্প্রচার পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১২০০ সেনা সদস্য মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত থেকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার মতে, এই আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
আমারবাঙলা/এসএবি