নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষক পরিবার আনন্দে মাতোয়ারা। কিছুদিন আগে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান কাটা, এবং এখন তা প্রায় শেষ পর্যায়ে। কৃষাণ-কৃষাণীরা এই ব্যস্ত সময় পার করছেন উৎসাহ ও আনন্দের সঙ্গে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের পোকার আক্রমণ বা পচন নামক রোগ-বালাই বিশেষ ক্ষতি করতে পারেনি। এজন্য ফলন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে।
খরিপ-২/২০২৫-২৬ মৌসুমে রোপা ধানের জাতভিত্তিক আবাদ:
হাইব্রিড ধান:
ধানী গোল্ড: ৬০ হেক্টর
উফশী - ব্রিধান ৩৪: ৯০ হেক্টর
ব্রিধান ৪৯: ৫০২০ হেক্টর
ব্রি ধান ৫১: ১৮০ হেক্টর
ব্রি ধান ৫২: ৫০ হেক্টর
ব্রি ধান ৬২: ৫০ হেক্টর
ব্রি ধান ৭১: ৪০ হেক্টর
ব্রি ধান ৭৫: ৫৭০ হেক্টর
ব্রি ধান ৮০: ১৫৮০ হেক্টর
ব্রি ধান ৮৭: ১৭২০ হেক্টর
ব্রি ধান ৯৩: ২৫০ হেক্টর
ব্রি ধান ৯৫: ২৪০ হেক্টর
ব্রি ধান ১০৩: ২৮০ হেক্টর
ব্রি ধান ৭: ১০০ হেক্টর
ব্রি ধান ২০: ২০০ হেক্টর
ব্রি ধান ১৭: ১৪০ হেক্টর
মোট: ১০,৫১০ হেক্টর
স্থানীয় জাতসমূহ:
কালিজিরা: ৫০ হেক্টর
ফুরাবডিশাইল: ২০ হেক্টর
চিনিগুড়া: ৪০ হেক্টর
মোট: ১,০৬৮ হেক্টর
চন্দরবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ জাদু মিয়া জানান, কৃষি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা ও কৃষকরা বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে ধান খেতকে মুক্ত রাখতে নানা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এর ফলে তারা যথেষ্ট লাভবান হয়েছে।
কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের শিখানো বিভিন্ন পদ্ধতি যেমন আলোর ফাঁদ তৈরি, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ, ধান ক্ষেতের মধ্যে ডালপালা পোতা, লোগো পদ্ধতিতে পানি নিয়ন্ত্রণ করা ইত্যাদি বাস্তবায়ন করায় এবার রোপা আমনে বাম্পার ফলন হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রুনা আক্তার বলেন, "আমাদের আশা ছাড়িয়ে এবার রোপা আমনের ভালো ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে ধান গোলায় তোলা সম্ভব হলে কৃষকদের মুখে আমরা হাসি দেখতে পাবো।"
আমারবাঙলা/এসএবি