প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা অনলাইন ও অফলাইনে মাঠে নেমেছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা হলেও পলিথিন মোড়ানো বা প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। একেকটি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না, যার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনলাইন প্রচারণার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের জন্য ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ, আইডি, ই-মেইল ঠিকানাসহ সব তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অনলাইনে কোনোভাবেই গুজব, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারী বা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং ধর্ম বা জাতিগত অনুভূতি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। নির্বাচনি স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইসি আরও জানিয়েছে, কর্মীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার দায় প্রার্থীদের ওপরই বর্তাবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থী বা দলের জন্য আলাদাভাবে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অফলাইন প্রচারণার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। বিদেশে জনসভা, সভা-সমাবেশ বা প্রচারণা করা যাবে না। একই জনসভায় তিনটির বেশি মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডের ওপর অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী টাঙানো কিংবা তা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মনোনয়ন যাচাই, আপিল শুনানি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে সারা দেশে মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ জন। এদিকে ঢাকা-১৫ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগ উঠেছে।
আমারবাঙলা/এসএ