কর্মক্ষম, আত্মনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণই গড়বে আগামী বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাব্যবস্থায় তরুণ প্রজন্ম নেতৃত্ব দেবে।
জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ ওয়াসিম ও শিশু আনাসের কথা বলতেই আবেগাপ্লুত হয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি শিক্ষার্থী ও আমার সন্তানদের চলার পথে ফুলের পাপড়ি ছিঁটাতে চাই। কারন আমার স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২৪শের আন্দোলনে আমাদের সন্তানদের বীরত্বগাতা কাহিনী দেশ গড়ার পথচলা হয়ে থাকবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠে উপজেলা ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা এমন শিক্ষা চাই যেখানে তৈরি হবে কর্মক্ষম, দক্ষ এবং আত্মনির্ভর যুবসমাজ। আগামী বাংলাদেশ হবে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দক্ষ মানবসম্পদসমৃদ্ধ দেশ—যা বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন , আমাদের লক্ষ্য এমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যা কেবল সনদ নয়, বাস্তব কর্মদক্ষতা, জীবনদক্ষতা এবং আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য, তরুণরা দক্ষ, প্রশিক্ষিত, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক হবে। তারা দেশের সেবা করবে, সমাজের সেবা করবে এবং নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেবে সম্মানের সঙ্গে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “চকরিয়া–পেকুয়া ও আশপাশের এলাকা ধীরে ধীরে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন শুধু স্থানীয় মানুষের জীবনমানই বাড়াবে না, জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগামী দিনে এই অঞ্চলে বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে, যানজট সামলানোর সক্ষমতা বাড়বে এবং এটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এখানকার উন্নয়ন দেশের রাজস্ব আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারী বিদ্বেষ নিয়ে জামায়াত ইসলামী দলের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা নজরে এসেছে। এর বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিবাদ, মিছিল ও আন্দোলন হয়েছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দেশের জন্য জীবন দিতে, রক্ত দিতে এবং নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে।
শহীদ ওয়াসিম আকরামকে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সিলংয়ে থাকাকালীন আমাকে দেখতে গিয়েছিল খুবই অল্পবয়সী ওয়াসিম। জুলাই আন্দোলনে আমরা তাকে হারিয়েছি। তার স্মৃতি ধরে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি যোগ করেন, “আমাদের পতাকা শুধু কাপড় নয়; এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য ত্যাগের প্রতীক। এই পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা, স্বাধীনতার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা—এখন তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব। তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব, তোমরাই দেশের শক্তি।
শিশু আনাসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “দুই হাজার চব্বিশের উত্তাল সময়ে এক কিশোর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ‘মা, আমি রেলস্টেশনে যাচ্ছি। আমার সাথীরা জীবন দিচ্ছে, রক্ত দিচ্ছে। আমি ঘরে বসে থাকতে পারব না। যদি আমি ফিরে না আসি, তুমি আমাকে নিয়ে গর্ব করবে।’ এটি এক প্রজন্মের সাহস, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক, যা দেশের উত্তরাধিকার রক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেতনার শিক্ষা দেয়।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আজকের উন্নয়ন ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের পেছনে আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও সংগ্রাম জড়িয়ে আছে। আরও অনেক কাজ বাকি, আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। দেশের জন্য জীবন দিতে পারে, রক্ত দিতে পারে এমন সাহসী প্রজন্ম তোমরাই। আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তোমাদের হাতে।
তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। তোমরা দেশের সেবা করবে, সমাজের সেবা করবে, এবং দেশকে আরও উন্নত, শক্তিশালী ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।
পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়ের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল কাশেম নুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পেকুয়া মধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম, কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশন সভাপতি মজিবুল হক চৌধুরী, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলমসহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।
আলোচনা সভা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়।
আমারবাঙলা/এনইউআ