কুষ্টিয়া ঝাউতলায় দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ধারালো মাংস কাটা ডাঁসা দিয়ে সোহেল রানা (৪৫) নামে একজন যুবককে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
আজ দুপুরের দিকে ঝাউতলা মোড়, রাজু হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়রা কাওসার নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়ে দেন। আহত ব্যক্তি হলেন কুমারখালী উপজেলার কালুয়া গ্রামের মৃত ওমর আলির ছেলে সোহেল রানা।
আহত সোহেল রানা বলেন, সকালের দিকে কুষ্টিয়া আদালত চত্বর থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটর সাইকেল যোগে রওনা হই। কিন্তু ঝাউতলা মোড়ে পৌঁছা মাত্র দুইটি মোটরসাইকেল তাকে গতিরোধ করে। এবং মোটর সাইকেল থামাতে বলে। পরে মোটর সাইকেল থামালে বুকুল, খসরু, রিপন, শিপন, কালু, জাহাঙ্গীর, লিটন, রিয়া, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে এলোপাতাড়ি ভাবে মাংস কাটা ডাঁসা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
পরে তিনি আহত সোহেল রানা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর রাস্তা থাকা আশ পাশের লোকজন সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে, কয়েকজন পালিয়ে যান এবং কাওসার হোসেন (২২)নামে একজন আটক করে পুলিশে দেন। আহত সোহেল রানাকে উদ্ধার করে অটোরিকশা যোগে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে সোহেল রানা বলেন, বিএনপি যুবদলের সাথে জড়িত থাকার কারণে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগদের ছাত্রলীগ তার উপর আক্রমণ করেছে বলে দাবি করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন মোটরসাইকেল চালককে গতিরোধ করে রাস্তা অবরোধ করেন। এরপর দুইটি মোটর সাইকেল থামিয়ে, তাদের ব্যাগ থেকে ধারালো ডাঁসা বের করে সোহেল রানা নামে একজন মোটর সাইকেল চালককে কোপাতে থাকে। পরবর্তীতে তারা সবাই একত্রে হয়ে হামলাকারীদেরকে ধাওয়া দিলে, তারা দৌড় দিয়ে পালানোর সময় একজন আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশে দেওয়া হয়। তবে কী কারণে তাকে কুপিয়েছে এ বিষয়ে বলতে পারবেন না। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি জানান।
আটককৃত কাওসার বলেন, আওয়ামী ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে সোহেল রানা তাদের উপর অত্যাচার করে তিনবারের মতো ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে। কিন্তু সোহেল রানা রাতারাতি ভাবে দল বদল করে এখন বিএনপিতে যোগ দিয়ে যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আবার তাদের উপর অত্যাচার করে। এরই জের ধরে আজ তাকে ধারালো ডাঁসা দিয়ে তাকে কোপানো হয়েছে বলে আটককৃত ব্যক্তি বলেন।থেরেখ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল ইসলাম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে একজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটককৃত ব্যক্তি হলেন কুমারখালী উপজেলার বেড় কালুয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে কাওসার হোসেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. হোসেন ইমাম জানান, আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
আমারবাঙলা/এসএবি