মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৮নং জাঙ্গিরাই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বারের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভা করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন— ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অহিদ খাঁ, ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল, প্রচার সম্পাদক ফিরোজ আহমদ, জাতীয়তাবাদী দল শহীদ জিয়ার সৈনিক মৌলভীবাজার জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক বুরহান উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল জুড়ী উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মকদ্দছ আলী ও ফয়সাল আহমদ, ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বশির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদির, জাতীয়তাবাদী জিয়ার সৈনিক দল জুড়ী উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জনি, ছাত্রদল নেতা জাবেদ আহমদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আব্দুল জব্বার আওয়ামী লীগের একজন ফ্যাসিস্ট নেতা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি অনেক বিএনপি নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এমন একজন ফ্যাসিস্টকে গুটিকয়েক বিএনপি কর্মী দলের কর্মী হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি কয়েকজন কর্মীকে ম্যানেজ করে বিএনপিতে নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিএনপি কখনোই তাকে মেনে নেবে না।
ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বারের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মাছুম রেজা, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল উদ্দিন এবং জায়ফরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসহাক আলী মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম জুবেল বলেন, যোগদানের বিষয়টি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। তাদেরকে এ বিষয়ে কেউ অবগত করেনি। দলীয় ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কোনো কাজ হয়ে থাকলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমারবাঙলা/এসএবি