নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের লাউসার এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মো. আরমান (২০)। তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার মধ্য কোনাগটা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মদনপুর ইউনিয়নের ইস্ট টাউন হাউজিং সংলগ্ন লাউসার এলাকায় একটি ডোবা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বড় ভাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফোরকান ও মামা মোস্তাক আহমেদ বন্দর থানায় এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। তারা জানান, প্রায় তিন মাস আগে আরমান কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। মাঝে মধ্যে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বললেও কোথায় থাকেন বা কী কাজ করেন এসব বিষয়ে কিছুই জানাতেন না তিনি। সর্বশেষ শবে বরাতের দিন বড় ভাই ফোরকানের সঙ্গে কথা বলার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মদনপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ইস্ট টাউন হাউজিং এলাকার লারিজ ফ্যাশনের পেছনের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরিহিত কাপড় ও সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোনের কললিস্ট, সিডিআর সংগ্রহ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মদনপুর ইস্ট টাউন হাউজিং এলাকার পেছনের একটি ডোবা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আমারবাঙলা/এসএ