চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় চাকরি হারানোর গ্লানি ও ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আতিকুর রহমান সুজন (২৯) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরহাজারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন ওই এলাকার মায়ার বাপের বাড়ির মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুজন দীর্ঘ সময় দুবাই ও কাতারে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রবাস জীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসায় দেড় বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার চার মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
সংসার চালানোর তাগিদে সুজন আনোয়ারা কর্ণফুলী ইপিজেডের (কেপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন। তবে দেড় মাস আগে আকস্মিকভাবে তার চাকরি চলে যায়। এরপর থেকেই তিনি তীব্র মানসিক হতাশা ও দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রান্নাঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুজনের লাশ উদ্ধার করে। তিনি বলেন:
"প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাকরি হারানো ও পারিবারিক অভাব-অনটনের দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা এখন দিশেহারা। মাত্র চার মাস বয়সী শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমারবাঙলা/এনইউআ