১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার আগে এপার এবং ওপার বাংলার যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে খোলা ছিল কলকাতা থেকে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে দেশীয় রাজ্য কোচবিহার-এর সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ-এর রেল যোগাযোগের ইতিহাস ছিল সোনালী। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে উত্তরবঙ্গকে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। ১৮৯৩-৯৪ সালে দেশীয় কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে চালু করেন। প্রথমে এই রেলপথ তোর্ষা নদীর তীর থেকে গিতালদহ পর্যন্ত নির্মিত হয়। গিতালদহ ছিল তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন, যেখান থেকে সরাসরি রেলপথ গিয়েছিল লালমনিরহাট হয়ে ঢাকার দিকে। এই রেলপথের দেশভাগের আগে কোচবিহার থেকে গিতালদহ হয়ে বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি ট্রেন চলাচল করত। তবে দেশভাগ ও পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ সংঘাত ব্যাঘাত ঘটায় সেই পরিষেবায়। এরপর মাঝে কিছু মালবাহী ট্রেন লালমণিহাটের মোগলহাট হয়ে গীতালদহ দিয়ে ভারতে চলাচল করলেও নদীভাঙনে একাধিক ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দুই দেশের উত্তরবঙ্গে একেবারেই অচল হয়ে ভারত-বাংলাদেশের রেলপরিষেবা। মোগলহাট স্টেশনটি দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও পড়ে দুই দেশে।
এরপর তিস্তা-মেঘনা-গঙ্গা- পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। জলের হিসেব তো আজো মেলেনি, কিন্তু ২০০১ সালে ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রথম কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে একটি ট্রেন। ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার মিলিত ভাবে যার নামকরণ করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে। ভারতে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে প্রথম বাঙালী ভারতীয় রাষ্টপতি প্রণব মুখার্জী। ট্রেনটি প্রথম দিকে সপ্তাহে ১ দিনের জন্যে চালু হলেও পরবর্তীতে কলকাতার চিৎপুর স্টেশন থেকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত সপ্তাহে ৫ দিন ধরে যাতায়াত করতে শুরু করে। এই ট্রেন শুধুমাত্র দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছিল এমনটা নয়, আন্তর্জাতিক বানিজ্যের পথও প্রসারিত করে। তৎসহ দুই প্রান্তের মানুষের চলাচলে স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবের ফ্রেমে উঠে আসে অনেক আবেগঘণ মুহূর্ত। ফেলে রাখা দিনের স্মৃতি ও ইতিহাস। এই উন্নয়নের পথকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৭ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা ও এলএইচবি কোচের সংযোগ করা হয় ভারতীয় রেলমন্ত্রকের তরফে।
এরপর একই সূত্র ধরে ৫২ বৎসর পর কোলকাতা ও খুলনার সাথে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস। বন্ধন শব্দের অর্থ হল সংযোগ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের অন্যতম সংযোগকারী, এই ট্রেনের পরিষেবা চালু হয় ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর। এই ট্রেনে উভয় দেশের বগি ও ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় যার ফলে যাত্রীদের সীমান্তে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো না। অতএব ইমিগ্রেশন ব্যবস্হাকে অনেক সহজ করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক অস্হিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারনে এই ট্রেনটিও ১৮ জুলাই ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে ।
কিন্তু মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করার ফলে দুই দেশের উত্তরবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা বা বাংলাদেশের সরাসরি রেল যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। সীমান্ত ছাড়িয়ে বাংলা ভাষার এই বিস্তৃত জমিনে যোগাযোগের সেই প্রতিকূলতা কাটাতেই ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমজনতার কথা মাথায় রেখে এবং ভারত বাংলাদেশের মিত্রতাকে আরোও দৃঢ় করে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্য দিয়ে দুটি দেশেরই সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও ট্যুরিজমের অগ্রগতি সাধনে দুই দেশের সদিচ্ছায় এবং জনগণের কল্যাণে আরও একটি ট্রেনের উদ্বোধন হয়। যার নামকরণ করা হয় মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে এই ট্রেনের উদ্বোধন হলেও যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ১ জুন থেকে। এই ট্রেনটি শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (এনজেপি) থেকে যাত্রা শুরু করে পৌঁছাতো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত। শিলিগুড়ি (এনজেপি) থেকে ট্রেনটি ছাড়তো সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে আর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাতো রাত সাড়ে ১০টায়, মোট সময় লাগতো ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে বলে কথিত শিলিগুড়ি শহর রেল যোগাযোগ মাধ্যম একদিকে যেমন সিকিম, অসম, অরুণাচল, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার মতো প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যদিকে ট্রেন লাইনে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটানের প্রান্তদেশ পাশাকা থেকে নেপাল সীমান্তের নকশালবাড়ী পানিট্যাঙ্কি। ইদানিংকালে এই এলাকার যোগাযোগ-ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি এই এলাকার বাণিজ্যিক পরিসরের ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটিছে। তাই মিতালি এক্সপ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই উত্তর-পূর্ব ভারতের ও তৎসংলগ্ন দেশগুলির সরাসরি সংযোগস্থাপন ঘটে। শুধুমাত্র পর্যটন নয়, এই সংযোগস্থাপন দুই দেশের স্বাস্থ্য ট্যুরিজম এমনকি আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যের এক পথপ্রদর্শক হিসেবে ভুমিকা নিতে শুরু করে।
এই পরিবর্তনের প্রভাবে যাত্রীদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ট্রেন। ক্রমবর্ধমান ভাবে বাড়ে যাত্রী সংখ্যা। উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও দেশি-বিদেশি নানাবিধ শহরের যোগাযোগের জন্যও অচিরেই উত্তরবঙ্গ প্রবেশের ভরসার মাধ্যম হয়ে ওঠে এই ট্রেন। এই রেল পরিষেবা চালুর সময় জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহর (এনজেপি)- তে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকরী হয় অভিবাসন দপ্তরের কাজকর্ম। তবে ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেলে প্রথম একবার বন্ধ রাখা হয় এই ট্রেন। ২০২২ সালে পুনরায় তা চালু হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দুই দেশের মধ্যে এই দুই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই পুনরায় ট্রেন দুটি চালুর বিষয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগকারী মিতালি এক্সপ্রেস ঘিরে উঠেছে গুঞ্জন ও আলোড়ন। কেননা এই এলাকার মানুষ জনের মাঝে প্রথিত রয়েছে আবেগ দেশভাগ ও ইতিহাসের এক নিবিড় সংযোগ।
সেই সূত্র ধরে ভারতীয় উত্তরবাংলার প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া বিশিষ্ট মানুষজনের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম নিতে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-র অন্যতম প্রধান নেতা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার শেকড় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জড়িত। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত দিনাজপুরের অংশ জলপাইগুড়ি শহরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় কেটেছে তার শৈশব। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে বা দেশভাগের পর, তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) দিনাজপুরে চলে যান। জলপাইগুড়ি শহরে আজও তিনি স্থানীয়দের কাছে 'পুতুল' নামেই পরিচিত। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুমাত্র জন্মস্থান কিংবা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সীমান্ত বাণিজ্য এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় খালেদা জিয়ার নাম বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রানজিট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বারবার আলোচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই বঙ্গেও নেমে আসে শোকের ছায়া।
অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত হুসেন মহম্মদ এরশাদ এর জীবনও উত্তরবঙ্গের এর সাথে জড়িত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাকে উত্তরবঙ্গের নেতাও বলা হত। সংস্কৃতি জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব গায়ক আব্বাসউদ্দীনও ছিলেন উত্তরের বাসিন্দা। অন্যদিকে সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে চলে আসে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সতীনাথ ভাদুড়ি, দেবেশ রায়, অমিয়ভূষণ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। এই তালিকা অতএব দীর্ঘ।
এইভাবে যারা দেশভাগের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছিলেন, তাদের জন্য সেইসব পরিবারের জন্য এইসব ট্রেন আসলে একটি আবেগের সেতুবন্ধন। তাদের মাধ্যমে দুই বাংলার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভাষা ও সংস্কৃতির মিল আরও দৃঢ় হয়। পরিব্যপ্তি ঘটে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকে মিতালি এক্সপ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম। দুই বাংলার এই দুটি প্রান্ত দুই দেশের জন্যই একটি বড় ও সম্ভাবনাময় বাজার হওয়ায়, এই দুই এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হয় এবং সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন ও লজিস্টিক খাত চাঙ্গা হয় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই ট্রেন সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উত্তরের দিকে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর বাণিজ্যিক কার্যকলাপ হয়। এই ট্রেন দুটি চালু থাকলে মানুষের চলাচল বাড়বে, বাজার সক্রিয় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারিও বাড়ানো সম্ভব, যা অবৈধ পাচার কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়াও দার্জিলিং, ডুয়ার্স, কালিম্পংয়ের মতো উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ট্রেন পরিষেবা চালু থাকলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, যার ফলে ভারতের হোটেল, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পরবে। এছাড়া বর্তমানে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রয়েছে মনিপাল, মেদান্ত, এ্যাপেলো, টাটা গ্রুপের উন্নতমানের হাসপাতাল পরিষেবা। এই ট্রেন দুটি পুনরায় চালু হলে তার পরিষেবার পরিসর অতিসহজে পৌঁছাবে বাংলাদেশেও।
লালমনিরহাটের মোগলহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও বুড়িমারী সিএনএফ বন্ধু ট্রেডার্সের কর্নাধার শামীম হোসেন জানান, মোগলহাটের মানুষ চায় আবারও ট্রেনের সংযোগ স্হাপিত হোক কোচবিহারের সাথে। এমন মতামত পোষন করেন এমন লোকজনের সংখ্যা অসংখ্য।
ভিসা জটিলতা কেটে গেলে, এই ট্রেন পরিষেবা আবার চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে বলেই মনে করছেন দুই দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই। দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে এবং সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অতিসত্বর এই রেল পরিষেবা আবার চালু করবেন, সেই আশায় তাঁরা নিচ্ছেন আবেগের আঁচ।
লেখক জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ।