রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবার অরাজকতা যেন দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এবার উত্তরা এলাকার রেডিক্যাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে সামান্য কাটা বা ক্ষতস্থানে তুলা দিয়ে সামান্য স্যাভলন লাগানোর বিপরীতে ৫০০ টাকা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার নামে এমন গলাকাটা বাণিজ্যে ক্ষোভে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ছোটখাটো আঘাত বা ক্ষত নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যারা রেডিক্যাল হাসপাতালে যাচ্ছেন, তারা বিল দেখে রীতিমতো হতবাক হচ্ছেন। কোনো জটিল ব্যান্ডেজ বা সেলাই নয়, বরং ঘরোয়া পদ্ধতিতেই করা সম্ভব এমন সামান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকা ‘সেবা মূল্য’ হিসেবে আদায় করছে।
এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমার হাতে হালকা ঘষা লেগেছিল। তারা শুধু তুলায় স্যাভলন লাগিয়ে একটু মুছে দিয়েছে। ওষুধের খরচ বাদ দিলেও শুধু এইটুকু কাজের জন্য ৫০০ টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা চিকিৎসা নয়, একেবারে ডাকাতি।”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সেবার মূল্য তালিকা বা নির্ধারিত ফি সম্পর্কে রোগীদের আগে থেকে কোনো তথ্য দেয় না। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর কাউন্টারে গিয়ে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় দীর্ঘ বিল। সেখানে সাধারণ তুলা, স্যাভলন কিংবা সামান্য গজ কাপড়ের দাম বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দেখানো হয়। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় চড়া নার্সিং বা সেবাশুল্ক।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সেবার মূল্য নির্ধারণ থাকাই স্বাভাবিক। তবে তুলা ও স্যাভলনের মতো তুচ্ছ উপকরণ ব্যবহার করে ৫০০ টাকা আদায় কোনোভাবেই নৈতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে পড়ে না। এটি মূলত রোগীদের অসহায় অবস্থাকে পুঁজি করে অর্থ আদায়ের একটি কৌশল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তরা এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর ওপর কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। এর ফলেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সাহস পাচ্ছে। রেডিক্যাল হাসপাতালের এই তথাকথিত চিকিৎসা বাণিজ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এসব হাসপাতাল সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে।
এ বিষয়ে রেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, হাসপাতালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ীই সব বিল করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক বিল আদায় বন্ধে এবং রেডিক্যাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আমাবাঙরা/এসএ