কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গেল এক বছর ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশ থেকে পালিয়ে যান সালাউদ্দিন। এর পর থেকে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবার একটি অভিযোগ পত্রও জমা দিয়েছে এলাকাবাসী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রায় এক বছরের বেশি অতিক্রান্ত হলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং পদটি শূন্য ঘোষণা করেনি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাধ্যমিক) শিক্ষক ও কর্মচারী চাকরি-শৃঙ্খলা বিধিমালা, ১৯৭৯ এর ১১(১)(গ) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে— ‘কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী যদি অনুমতি ব্যতিরেকে একটানা ৩০ কর্মদিবস বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকে, তবে তাকে অপসারণযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী এই শিক্ষককে ইতোমধ্যেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এতে—শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় শিক্ষাগত ক্ষতি হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হচ্ছে। কারণ, তাকে এমপিওভুক্ত বেতন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ওই শিক্ষককে বিধি মোতাবেক চাকরি থেকে অপসারণ এবং পদটি শূন্য ঘোষণা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিতপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বাহিরে চলে যান সালাউদ্দিন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, সেটি কেউই জানাতে পারেনি।
এ বিষয়ে দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান চ্যানেল 24 অনলাইনকে বলেন, সালাউদ্দিন গেল বছরের আগস্ট মাস থেকে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে সেটি শিক্ষাবোর্ডে পাঠানো হবে। বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তাকে দুইবার শোকজ করা হয়েছে স্কুলের পক্ষ থেকে। প্রথমবার জবাব দেয়নি। দ্বিতীয়বার ৭ দিনের শোকজ করা হয়, এখনও জবাব দেননি তিনি। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে স্কুলের পক্ষ থেকে।
আমারবাঙলা/জিজি