প্রায় দুই দশক পর ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে আজ মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনে স্থাপিত ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে জড়ো হন। প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন জটিলতার কারণে এর আগে তিন দফা জকসু নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ইনস্টিটিউট ও বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৬৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। পাশাপাশি হল সংসদের ১৩টি পদে রয়েছেন ৩৩ জন প্রার্থী। হলের শিক্ষার্থীদের হল সংসদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য আলাদাভাবে ভোট দিতে হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ শেষে ছয়টি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ব্যালট গণনা করা হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এবং ভোট গণনার কার্যক্রম এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি প্রদর্শন করা হবে।
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং বামপন্থী মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল। এছাড়া একটি আংশিক প্যানেল ও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি