আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত ক্রয়-বিক্রয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন বৈষম্যবিরোধী নেতা পাবেল আহমদ রাফি নামে এক ভুক্তভোগী। রাফি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরভাগ এলাকার রাজু আহমেদ সাজন মিয়ার ছেলে।
তিনি বলেন, গত ৬ জানুয়ারি মনুমুখ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবুল চৌধুরী, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট কথাবার্তা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন।
পাবেল জানান, তিনি সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি মৌলভীবাজারে আসেন না। গত বছর তার দুটি সিএনজি, একটি গরু ও দুটি দোকান চুরি হয়। এসব ঘটনার কারণে তাকে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়। আবুলদের সঙ্গে পারিবারিক কোন্দলের কারণে অলৌকিকভাবে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ যাবৎকাল তিনি কোনো মামলার বাদী কিংবা সাক্ষী হননি। বৈষম্যবিরোধী কোনো মামলার সঙ্গেও তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে গ্রেপ্তার বা হুমকি দেওয়ার কোনো প্রমাণ ছাড়া অযথা তার মানহানির উদ্দেশ্যে আবুল চৌধুরী মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বরাবরে ২৪/১২/২০২৫ ইং তারিখে একটি দরখাস্ত করেন। ওই আবেদন বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবুল চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিবারের জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত টাকা আত্মসাতের জের ধরে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আবুল আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় প্রশাসন যেন তাকে না ধরে, সে জন্য তিনি মিথ্যা অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
পাবেল আরও অভিযোগ করেন, তার পরিবারের ৭১ লাখ টাকা আবুল ও তার সহযোগীরা আত্মসাৎ করেছেন, যা এলাকার সবাই জানে। তার পরিবার যাতে এই টাকা উদ্ধারে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে না পারে, সে জন্যই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের কাগজপত্র ও বায়নাপত্রের প্রমাণ রয়েছে। তিনি বায়নাকৃত জমির বিক্রেতার সঙ্গে যোগসাজশে তার ভাই লিলু মিয়া জনৈক আহসান উল্লাহর কাছ থেকে গোপনে জমি ক্রয় করে উভয়ে লন্ডন চলে যান। বর্তমানে লিলু দেশে এলে বিচার-সালিশের চেষ্টা করেও এলাকার মুরুব্বিরা বারবার ব্যর্থ হন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর চাচা ছানু মিয়া, ফুফা লৎফুর রহমান প্রমুখ।
আমারবাঙলা/আরআরপি