বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া কোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ঋণ প্রদান বা সুশাসন বিষয়ে কোনো রকম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্মুখীন হলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর জন্য এমডিদের পরামর্শ দেন তিনি।
গভর্নর বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
রোববার (১ মার্চ) ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অভ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ-এর (এবিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
বৈঠকে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বে মোট ১৯টি ব্যাংকের এমডি যোগ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর ছাড়াও তিন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, হাবিবুর রহমান ও কবির আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গভর্নর ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সরকারের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকের নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে অফিস ভাড়ার একটি কাঠামো ঠিক করে দেওয়া হবে, যাতে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি অনুমোদনের জন্য বারবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে না হয়।
সভার বিষয়ে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নতুন গভর্নরের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটি সফল হয়েছে। গভর্নর অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তিনি আমাদের ১৯ জনের প্রত্যেকের মতামত ধৈর্য ধরে একে একে শুনেছেন এবং তাঁর বেশ কিছু মূল অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরেছেন।’
মাসরুর আরেফিন জানান, গভর্নর এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবসা ও উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি খেলাপি ঋণ থেকে সৃষ্ট অকার্যকর সম্পদগুলোর উৎপাদনশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, কিভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো নতুন উৎপাদন বা সেবাধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
আমারবাঙলা/এসএবি