বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের জানাজার দিন শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমন বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছিল।
জয়শঙ্কর যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক বার্তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিলেন, তখন মনে হয়েছিল যে ১৮ মাসের টানাপোড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের উন্নতির একটা সুযোগ মনে হয়েছিল তখন। আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশা আমরা মনেপ্রাণে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারিনি।
সম্পর্কের বিষয়টি যে শুধু আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। উভয় দেশের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের উন্নতি কতটা জরুরি তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই।
যে ক্রিকেট সৌহার্দ্য ও সম্পৃতির বার্তা বহন করে, সেই ক্রিকেট দিয়েই সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেল। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে।
এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, খোদ ভারতেও কম-বেশি সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে কিংবা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সাথেও কোনও প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রমশ অবনতিশীল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী সকল মানুষ এবং বাংলাদেশের জন্য বেশ অপমানজনক মনে হচ্ছে।
এই উপমহাদেশে ক্রিকেট একমাত্র এমন উপলক্ষ, যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক ফ্রেমে ধরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু ভু-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ক্রিকেট এখন স্বাধীন ও সার্বজনীন চরিত্র হারিয়েছে বলাই যায়।
জয়শঙ্কর বিষয়টি এখন কিভাবে দেখছেন তা হয়তো আমরা জানতে পারব না। তবে তিনি শোক বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে এসে যে উদারতা প্রকাশ করেছিলেন, তা বেশি সময় টিকে থাকলো না। সম্প্রতি তিনি ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে নতুন কিছু বলবেন বলে মনে হয় না।
ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি এখন আর ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতির ভেতরে ঢুকে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।
কারণ, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ ভারতে গিয়ে খেলা হবে না। এমনকি আইপিএলের খেলা সম্প্রচারও বন্ধ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ভাষ্য অনুযায়ী আইসিসি বলেছে—বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। কিন্তু বিসিবি বলছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এমন জটিল পরিস্থিতিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইসিসি কী ভূমিকা নেবে, অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
লেখক :সাংবাদিক ও লেখক
আমারবাঙলা/এসএবি