ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা আজ সোমবার রাতে শেষ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটে এই আলটিমেটাম পার হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিমুক্তভাবে সম্পূর্ণরূপে খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
গত শনিবার নিজের সামাজিকমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। আর ওই হামলা শুরু হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে।’ খবর বিবিসির
এর জবাবে ইরান যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ রোববার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা করে, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘চিরতরে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।
গালিবাফ তার পোস্টে বলেন, ‘ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো আঘাত এলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও তেল স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই পাল্টা আঘাত এমনভাবে করা হবে, যা কোনোভাবেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
ট্রাম্পের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগে থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এরইমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, এই সংকটের প্রভাব সত্তরের দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। এই জলপথ দিয়ে চলাচলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
আমার বাঙলা/আরএ