নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ

কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ক্ষতির মুখে চা শিল্প

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা শিল্প। ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর চা বাগানগুলোতে গত পাঁচ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে কমে গেছে। সময়মতো প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এনটিসির পাঁচটি চা বাগানের উত্তোলিত প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঁচা চা পাতা বিনষ্ট হয়েছে। ফলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে চা শিল্প। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার এনটিসির পাত্রখোলা, মাধবপুর, কুরমা, চাম্পারায় ও মদনমোহনপুর চা বাগানে সম্প্রতি উত্তোলিত আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা ইতোমধ্যে বিনষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া গেলে এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ৬০ হাজার কেজি তৈরি চা উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চা বাগানগুলোতে একদিকে কাঁচা পাতা বিনষ্ট হয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

এনটিসি, ডানকান ব্রাদার্স, চা বোর্ড, দেউন্দি টি কোম্পানিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে মোট ২২টি চা বাগান রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে এসব চা বাগানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়েছে। চা প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপগুলো সময়-সংবেদনশীল হওয়ায় পাতা তোলার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ না হলে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট সরাসরি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এনটিসির বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারেই কমে আসে। ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে চা কারখানাগুলোতে উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চা বাগানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা চা পাতা উত্তোলিত হলেও তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উত্তোলিত কাঁচা পাতার বৃহৎ অংশ বিনষ্ট হচ্ছে।

এ বছর চা পাতার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দিনের প্রায় ২০ থেকে ২১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার মেশিনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে কাঁচা পাতা সংগ্রহের পর দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, এতে পাতা পচে যাচ্ছে বা বাজারজাতকরণের মান হারাচ্ছে।

তাদের মতে, গত ২৭ এপ্রিল অকশনের আগে উৎপাদিত পাঁচটি চা বাগানের ৫১ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়, যার মূল্য আসে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আরও বেশি চা বিক্রি করা সম্ভব হতো।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে। ফলে চা কারখানাগুলো চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না এবং উত্তোলিত পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, গ্রেফতার ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশকে কে...

আফতাবনগরের ফ্ল্যাটে মাদকবিরোধী অভিযান: প্রায় ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩

রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল...

বন্দরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ৫ জন অগ্নিদগ্ধ

নারায়নগঞ্জ বন্দরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন সহ ৫ জন অগ্নিদগ...

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন,

জুলাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন ও তার প্রভাব নির্মূল করা। তব...

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা