"উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট" এই প্রবাদকেও হার মানিয়েছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার ঢাকা বেকারি ও ঢাকা বেকারি-১ এর ভেতরের অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরী, মেয়াদ না দেওয়া ও খাবারে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কেমিক্যাল এবং কাপড়ের রং মেশানোর ঘটনা।
বেকারি দুটির মেজেতে যত্রতত্র পড়ে আছে ময়লা আবর্জনা। চারদিকে মারাত্মক পঁচা গন্ধ। জং ধরা পাত্রে রাখা হয়েছে তেল। কেক তৈরীর পাত্রে মরে পড়ে আছে পঁচা আছে তেলাপোকা। ব্যবহার করছে গন্ধযুক্ত পচা ডিম। মেঝেতে রাখা হয়েছে ময়দা, লবণ, বিভিন্ন কাঁচামাল ও তৈরি করা খাবার।
এছাড়া, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তৈরি করা বিভিন্ন খাবারের কাঁচা ময়দায় লেগে আছে ময়লা হাতের ছাপ। ফ্যাক্টরির ভিতরের বিভিন্ন দ্বারে বাসা বেধেছে চড়ুই পাখি। খাবার তৈরীর বিভিন্ন পাত্রে জমাট বেঁধে আছে বালি ও লেগে আছে বহুদিনের বাসি কাঁচা উপাদান; বিভিন্ন জায়গায় ধরেছে জং, যেন বহুদিন ধরে পাত্রগুলো পরিষ্কার করা হয়নি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেকারি প্রতিষ্ঠান দুটিতে খাবার তৈরীতে এমন অনিয়মের মারাত্মক দৃশ্য দেখে হতবাক স্বয়ং ভোক্তাধিকারের কর্মকর্তারাও...তারা বলছেন, বিবেকবান মানুষের দ্বারা এমন পরিবেশে খাবার তৈরি করা সম্ভব নয়।
ভোক্তা অধিকারের অভিযানে মেয়াদ না দেওয়া, বিষাক্ত নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগে ঢাকা বেকারিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নোংরা পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অপরাধে ঢাকা বেকারি-১ কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে আপাততে উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভোক্তা অধিকার চট্টগ্রাম।
ঝলমলে সাদা প্যাকেটে ফুটপাতের টং দোকান থেকে শুরু করে বিখ্যাত চায়ের দোকানেও দেখা মেলে এইসব চকচকে মুখরোচ বেকারি পণ্য। আসলে কেউ জানে না এসব খাবার কেমন পরিবেশে, কি উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে...? সরল বিশ্বাসে কিনে খাচ্ছে কুলি, দিনমজুর ছাত্র থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকরাও। এসব খাবার নিয়মিত খেলে মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ধারণা ভোক্তা অধিকারী চট্টগ্রামের উপপল্লাহ
মানুষের নিত্যদিনের খাদ্য নিয়ে এমন নির্মম অবহেলা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর আঘাত.... এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, নিয়মিত ও কঠোর তদারকি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করছে সচেতন মহল।
আমারবাঙলা/এনইউআ