কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার প্রায় ১১টি ইউনিয়নে গত তিন বছরে ১২২টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে এসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছরে কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিননগর, যদুবয়রা, বাঁশগ্রাম, কসবা, চাঁদপুর, শিলাইদহসহ মোট ১১টি ইউনিয়নে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা।
ট্রান্সফরমার চুরির ফলে কৃষকদের সেচকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় গ্রাহকরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, ব্যাটারি চার্জ করতেও সমস্যায় পড়ছেন। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছে। এতে বিদ্যুতচালিত যন্ত্রপাতিও দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
স্থানীয় গৃহবধূ ফাতেমা খাতুন বলেন,
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে পারছি না। চার্জ দিতে হলে দুই-এক গ্রাম দূরে গিয়ে বসে থাকতে হয়। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।”
কৃষক হালিম বলেন,
মাঠ এলাকায় সন্ধ্যার পর একেবারেই লোকজন থাকে না। এই সুযোগে চোরচক্রের সদস্যরা সহজেই বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে তার ও ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার।
একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়,
সামনে এসএসসি পরীক্ষা। অনেক চাপ আছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।”
একজন খেটে খাওয়া অটোরিকশা চালক বলেন,
বিদ্যুৎ না থাকলে পেট ভরে না। প্রতিদিনের আয় দিয়েই সংসার চলে। কিন্তু বারবার ট্রান্সফরমার ও তার চুরি হওয়ায় নিয়মিত ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। ফলে ঠিকমতো অটো চালাতেও পারছি না, বাড়তি আয়ের কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানালে কর্তৃপক্ষ জানায়— গ্রামে ট্রান্সফরমার ও তার চুরি হয়েছে, এগুলো পুনঃসংযোগ দিতে হলে গ্রামবাসীকেই টাকা দিতে হবে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন,
গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে দুইজন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত মালামাল ও চুরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। চোরচক্রটি সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই বাকি চোরদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আমারবাঙলা/এসএবি