লেবাননে এ যাবতকালের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পরমাণু শক্তিধর একমাত্র মুসলিম দেশ পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লেবাননে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান বলেছে, হামলাগুলো ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে এবং উত্তেজনা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এ বিবৃতি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের আঞ্চলিক সংঘাতের পর হওয়া একটি নাজুক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। পাকিস্তান ও ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলেছে, এটি লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনকে অন্তর্ভুক্ত করে না এবং চুক্তি সত্ত্বেও সেখানে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানায় ইসলামাবাদ। ইসরাইলি হামলার কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরাইলের এসব কর্মকাণ্ড ‘অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে’ এবং এটি ‘আন্তর্জাতিক আইন ও মৌলিক মানবিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, হামলা বন্ধে ‘জরুরি ও বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে।
বিবৃতিতে ইসলামাবাদ লেবাননের সরকার ও জনগণের প্রতি ‘অটল সংহতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর উপস্থিতির কারণে লেবানন দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে, যা ইসরাইলের উত্তর সীমান্ত বরাবর কার্যক্রম চালায়।
ইসরাইল বারবার লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেল আবিব দাবি করে যে, এই গোষ্ঠী সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করে।
সর্বশেষ এই উত্তেজনা বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল লেবাননে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে—যা সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে অতিরিক্ত আঞ্চলিক পক্ষগুলোর জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ।