ধর্মীয় সহনশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন—এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন গড়ে তুলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) চকরিয়ার মালুমঘাট চা-বাগানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ধর্মে ভিন্ন হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবাই সমান। বিএনপি সেই বিশ্বাস থেকেই সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চায়।”
তিনি বলেন, অতীতে ধর্মকে ব্যবহার করে যারা উপাসনালয়ে হামলা চালিয়েছে, তারা আবার ক্ষমতায় এলে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমান বাস্তবতা দেখলেই বোঝা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের আচরণ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ যদি দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়, তবে বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। তিনি বলেন, “সবাইকে একসঙ্গে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে।” এতে শিক্ষিত বেকার সমস্যাও কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার পক্ষে অবিচল শক্তি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতেই ন্যস্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পেকুয়া বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক পথসভায় তিনি বাজার ব্যবস্থাপনার নামে চলমান অনিয়ম ও শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। বাজারে গরু-ছাগল উঠলেই বিক্রি হোক বা না হোক টাকা আদায়ের ঘটনাকে তিনি ‘প্রকাশ্য জুলুম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, “বাজারে ঢুকলেই পশুর টাকা দিতে হবে—এ ধরনের নিয়ম অবৈধ। বিক্রি না হলে কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না।” এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ না হলে পুরো বাজার ডাকমুক্ত করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বাজারে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে জুলুম বন্ধ করতে হবে।
বাজারের ডাক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, তিন দফা ডাকের পর স্বল্প মূল্যে ডাকের সুযোগ রাখা যেতে পারে, তবে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা যাবে না।
পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দিতে এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে জনগণের সেবার সুযোগ করে দিতে।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, অধ্যক্ষ এস এম মনজুর, অধ্যাপক ছাবের আহমদ, অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন ও নাজেম উদ্দিন বক্তব্য দেন।
এছাড়া মালুমঘাট চা-বাগান ব্যাপ্টিস্ট চার্চ মাঠে অনুষ্ঠিত পৃথক পথসভায় চার্চের পালক থিউপিল মল্লিকের সভাপতিত্বে যোসেফ অমূল্য রায়, মিন্টু দাশ, কাজল মল্লিক, মাস্টার আনোয়ার হোসাইন, অধ্যক্ষ এ এম ফরিদুল আলম চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন ও সাংবাদিক এম আর মাহবুবসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
আমারবাঙলা/এনইউআ