ন্যাটো সম্মেলনে স্পেনকে আবারও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনকে জোটের ‘দুর্বল অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, স্পেন ন্যাটোর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না এবং জোটে প্রয়োজনীয় অবদানও রাখছে না।
এ সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথমত, স্পেন ন্যাটোর নতুন প্রস্তাবিত লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে রাজি হয়নি। দ্বিতীয়ত, চলতি বছরের মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় স্পেন তাদের সামরিরক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমাও বন্ধ করে দেয়। সেই থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ন্যাটো সম্মেলনের শুরুতেই একাধিক বহুজাতিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগ ঘোষণা
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমষ্টিগত নীতির আওতায় পরিচালিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে কেবল স্পেনকে লক্ষ্য করে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। এমন পদক্ষেপের জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণাসহ বিশেষ আইনি ভিত্তিরও প্রয়োজন হতে পারে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার ট্রাম্পের ঘোষণাকে পাত্তা না দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্পেনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এখনও শক্তিশালী রয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্পেন আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে না।
:ন্যাটো সম্মেলন / তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির ইঙ্গিত ট্রাম্পের
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চেও ট্রাম্প একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেনে রপ্তানি ছিল প্রায় ২৬.৬ বিলিয়ন ডলার এবং স্পেন থেকে আমদানি ছিল প্রায় ২১.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
আমার বাঙলা/ রাব্বি